ব্রাজিলকে শিরোপা জেতাতেই এত দুর্নীতি: মেসি

0
181
ব্রাজিল

চিলি

সাও পাওলোয় বাংলাদেশ সময় শনিবার রাতে কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থানে নির্ধারণী ম্যাচে চিলিকে ২-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। ৩৪তম মিনিটে বল দখলের এক পর্যায়ে চিলির গারি মেদেলকে পেছন থেকে চ্যালেঞ্জ করেন মেসি। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানো মেদেল মেসিকে বুক এবং হাত দিয়ে ধাক্কা দেন। যদিও মেসি তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি, কিন্তু প্যারাগুয়ের রেফারি দুজনকেই সরাসরি লালকার্ড দেখান।

২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেক ম্যাচে লালকার্ড পাওয়ার পর এই প্রথম সরাসরি লালকার্ড পেলেন মেসি।

ম্যাচের ঘটনায় লালকার্ড প্রাপ্য ছিল না জানিয়ে মেসি রেফারির কড়া সমালোচনা করেন।

“ম্যাচে অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমি মনে করি রেফারি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। আমাদের দুজনকে হলুদকার্ড দিলে সবকিছু নিষ্পত্তি হয়ে যেত।”

দুর্নীতি

“আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। কেননা আমি মনে করি, আমি ওই লালকার্ড পাওয়ার যোগ্য ছিলাম না। আমি মনে করি, আমরা খুবই ভালো একটা ম্যাচ খেলছিলাম। এগিয়ে ছিলাম কিন্তু আমি যেটা সম্প্রতি বলেছি-দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক দুর্নীতি, রেফারিরা… আমরা এই অনুভূতি নিয়ে চলে যাচ্ছি যে তারা আমাদেরকে ফাইনালে যেতে দেয়নি। আমরা আরও ভালো কিছুর জন্য প্রস্তত ছিলাম।”

“ব্রাজিলের বিপক্ষে সেমি-ফাইনাল এবং আজকের ম্যাচ ছিল আমাদের দুটি সেরা পারফরম্যান্সের ম্যাচ। কিন্তু যখন আপনি বিষয়গুলো নিয়ে বলবেন, তখন এগুলো হবে।”

ব্রাজিলের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনার দুটি পেনাল্টির আবেদনে ভিএআর এর সহায়তা না নেওয়ায় রেফারিদের কড়া সমালোচনা করেছিলেন মেসি। চিলি ম্যাচের লালকার্ড ওই প্রতিক্রিয়ার ফল কিনা সরাসরি জিজ্ঞেস করা হলে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, “হ্যাঁ, দুর্ভাগ্যজনকভাবে হ্যাঁ। আপনি সৎ হতে পারবেন না এবং আপনি বলতে পারবেন না যে কিভাবে হওয়া উচিত ছিল।”

ব্রাজিলকে শিরোপা জেতাতেই দুর্নীতি হচ্ছে বলে মনে করেন মেসি।

“আমার মনে হয় কোনো সন্দেহ নেই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমি মনে করি এটা (শিরোপা জয়ের ক্ষেত্র) ব্রাজিলের জন্য প্রস্তত করা আছে।”

“আমি আশা করি, ভিএআর এবং রেফারি কোনো ভূমিকা রাখবে না যাতে পেরু লড়াই করতে পারে; কেননা জেতার মতো দল তাদের আছে। কিন্তু আমি এটা খুব কঠিন দেখছি।”

বাংলাদেশ সময় রোববার রাত দুইটায় ফাইনালে পেরুর মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ব্রাজিল।

লাল কার্ড দেখার জন্য আগামী মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচ খেলতে পারবেন না মেসি। এসব কড়া মন্তব্যের জন্য বাড়তি নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে পারেন। ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানালেন এর তোয়াক্কা করেন না তিনি। সত্যিটা বলে যাবেন অকপটে।

“তারা যা ইচ্ছা করতে পারে। সত্যিটা অবশ্যই বলতে হবে। আমি শান্ত থেকে, মাথা উঁচু করে চলে যাচ্ছি। আমি এই দলকে নিয়ে গর্বিত, যারা সবটুকু দিয়েছিল এবং টুর্নামেন্টজুড়ে উন্নতি করছিল।”

“আমি আশা করি দলটাকে শ্রদ্ধা করা হবে এবং লোকে তাদের সমর্থন দিবে। কেননা, এই ছেলেদের অনেক কিছু দেওয়ার আছে, যা তারা ম্যাচগুলোয় দেখাল।”

এক বিবৃতিতে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল মেসির অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন এবং অসত্য’ বলে উল্লেখ করেছে।