গ্যাসের দাম বাড়ানো অযৌক্তিক নয়: কাদের

0
43
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বাম জোটের ডাকা হরতালের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, গ্যাসের দাম সমন্বয় করার জন্য মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ কারণে গ্যাসের দাম বাড়ানো অযৌক্তিক হয়নি। সে কারণে নগর জীবনে হরতালের কোনো প্রভাব পড়েনি।

রোববার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আবারও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পরও ভর্তুকি দিতে হবে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি বাস্তবসম্মত।

গ্যাসের দাম বাড়ানোয় ভোটের রাজনীতিতে নেগেটিভ প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা (ভোটের রাজনীতি) মাথায় রেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। দেশের অর্থনীতির কথাও আমাদের ভাবতে হয়।’

হরতাম এখন আর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের হাতিয়ার নয় এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকা শহরে হরতালের কোনো চিহ্ন নেই। চলছে যানজট। বাস্তবতা বুঝে এ হরতালে জনগণের সাড়া নেই। হরতাল এখন গণআন্দোলনের অস্ত্র নয়, এটা মরিচা ধরে গেছে।

‘এলএনজি ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে’-বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এটা বিরোধীদের গতানুগতিক বক্তব্য।’ একই ধরনের বক্তব্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞরাও দিচ্ছেন জানালে তিনি পাল্টা সেই বিশেষজ্ঞের নাম জানতে চান।

‘সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তি আটকে রেখেছে’, বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন ও কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। খালেদা জিয়ার বিষয়ও বিচার বিভাগের বিষয়।’

স্থানীয় নির্বাচনে যারা দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘ডিসিপ্লিন ব্রেক করার আসকারা পেলে এর প্রবণতা বাড়ে। তাই আমরা এর লাগাম টেনে ধরতে চাই। তাদের বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হবে। কেউ এমপি ও মন্ত্রী হয়ে দলের বিরুদ্ধে কাজ করলে, তাকে আগামীতে মনোনয়ন দেয়া নাও হতে পারে। কম গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হতে পারে। নানারকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলেই কি শাস্তি হয়?

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যথাসময়ে দলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সে প্রস্তুতি, লক্ষ্য, উদ্যোগ আমাদের আছে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আহমদ হোসেন, এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।